ভারতের সমাজকে তার আসল পথ থেকে বিমুখ করার জন্য একটা বড় অংশে দায়ী মিডিয়া। সেটা টিভি হোক, ডিজিটাল মিডিয়া হোক বা প্রিন্ট মিডিয়া। মিডিয়ার কারণেই ভারত দেশের যুবক যুবতীরা তাদের সঠিক আদর্শ খুঁজতে গিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে। এর কারণ ভারতের মিডিয়া বার বার সানি লিওন, ক্যাটরিনা কাইফ এর মত অভিনেত্রীদের নিয়েই হাইলাইট করতে থাকে। কিন্তু যারা দেশের আসল অগ্নিকন্যা তাদের দিকে কখনোই ক্যামেরার লেন্স ঘোরাই না দেশের মিডিয়া।এখন যদি কেউ সানি লিওন বা ক্যাটরিনা কাইফকে আদর্শ মনে করে জীবনের ক্যারিয়ার গড়া শুরু করে, তাহলে তার জীবন সমাজকে অবনতির দিকে নিয়ে যাবে এটা স্বাভাবিক।কিন্তু যদি কোনো ভারতীয় মেয়ে দেশের আসল অগ্নিকন্যাদের আদর্শ করে এগিয়ে যায় তাহলে তার জীবন সমাজকে উন্নতির দিকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সীমা সেই সমস্থ মেয়েদের জন্য বড় উদাহরণ যারা নিজেকে দুর্বল মনে করে। ডক্টর সীমা রাও ভারতের একমাত্র মহিলা কামান্ডো ট্রেনার। ইনি বিগত ২০ বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই ভারতের সেনা জওয়ানদের ট্রেনিং দিচ্ছেন। ইনার এত পরিমান উপলদ্ধি রয়েছে যে সেগুলো গুনতে গুনতেই আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। সীমা রাও বিগত ২০ বছর ধরে NSG , প্যারা স্পেশাল ফোর্স, মার্কোস মারিন, গাড়ুর কামান্ডো ও পুলিশের জওয়ানদের ট্রেনিং দিয়ে আসছেন। এই অগ্নিকন্যা ট্রেনিং প্রদানের জন্য কোনো পারিশ্রমিক নেন না। সীমা একজন ডক্টর, উনার স্বামী মেজর দীপক রাও উনাকে মার্শালাট এর প্রতি উৎসুকতা প্রদান করেছিলেন। ট্রেনিং এর সময়কালে উনি অনেকবার আহত হয়েছেন কিন্তু উনি হার মানেনি। আর আজ উনি একজন বিখ্যাত কামান্ডো ট্রেনার।

রক ক্লাইম্ব থেকে শুরু করে মিলিটারি সবক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেছে ৭ ডিগ্রি ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্ত এই অগ্নি কন্যা। দেশের সেবা করার জন্য উনি নিজের ব্যাক্তিগত জীবনকে কুরবানী দিয়েছেন। উনি দেশের প্রতি নিজের কর্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে বাচ্চা পর্যন্ত নেননি। উনি এক বাচ্চাকে দত্তক নিয়েছেন। দেশে সেবার এত বড় দায়িত্ব উনি নিজের কাঁধে নিয়েছেন যে নিজের বাবার অন্তিম কার্যে পর্যন্ত উপস্থিত হতে পারেনি ভারতের এই অগ্নি কন্যা। সীমা ও তার স্বামী বিগত দুই দশক ধরে ভারতীয় জওয়ানদের ট্রেনিং প্রদান করেছেন। একবার তো এক বড় হামলায় সীমা এতটাই গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন যে উনি স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ছিলেন, অনেক চিকিৎসা কার্য চলার পর উনি আবার সাধারণ জীবনে ফিরেছিলেন। সীমার স্বামী দীপক রাও ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট অফ ইন্ডিয়া রাঙ্ক এর পুরস্কার দ্বারা ভূষিত হন। এই দম্পতি বিগত অনেক বছর ধরে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ আর্মি জওয়ান, কামান্ডদের ট্রেনিং দিচ্ছেন।

দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সেনা জওয়ানদের ট্রেনিং দেওয়ার জন্য এবং নিজেকে দেশ সেবার জন্য নিয়োজিত করার জন্য উনি ওয়ার্ল্ড পিস এওয়ার্ড, প্রেসিডেন্ট ভলেন্টিয়ার সার্ভিস এওয়ার্ড দ্বারা ভুষিত হয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে ভারতের মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যম সীমার মতো অগ্নি কন্যার উপলদ্ধির উপর ফোকাস না করে সমাজকে নোংরা করা সানি লিওনের উপর ফোকাস করতে ব্যাস্ত থাকে।
from India Rag Bengali : Bengali News, বাংলা খবর, Bangla News, Bangla Khobor, 24 Ghanta, ei samay, ebela http://bit.ly/2Dd8SMo
Bengali News