ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম টিকটক (Tiktok) একবার আবার শিরোনামে এসেছে। কিছুদিন আগে এই প্লাটফর্মে প্রসারিত কিছু ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার বিষয় হয়ে গেছে। টিকটকের মাধ্যমে কিছুজন আতঙ্কবাদকে সমর্থন করার কাজ শুরু করেছে।
আসলে, টিকটক এর প্লাটফর্মে কিছুদিন আগেই কয়েকটা ছেলে ভিডিও প্রসারিত করেছে। এই ভিডিওতে তাবরেজ আনসারীর মামলার ব্যাপারে বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোর অভিযোগ করা হচ্ছে। একটি ভিডিওতে হাসনেন খান নামক যুবক বলেছে-
” মেরে তো দিলে তোমরা নির্দোষ তাবরেজ আনসারিকে কিন্তু পরবর্তীকালে যখন তার সন্তান বদলা নেবে, তখন এটা বলবেন না যে সে একটা আতঙ্কবাদী।”
এর সমর্থন করে ভিডিও বানিয়েছে আরেকজন টিকটক ইউজার ফ্যাসু, যিনি জি মিউজিক কোম্পানির অনেক ভিডিওতে ছিলেন, তিনিও এই ধরণের প্রোপাগেন্ডা কে নিজের ভিডিওতে প্রসারিত করেছে। ফ্যাসু এর জনশ্রুতি হিসাবে টিকটক এ ২২মিলিয়ানের বেশি ফললোয়ার্স আছে। শুধু তাই নয় আতঙ্কবাদকে সমর্থন করা এই ব্যাক্তি ঋত্বিক রোসান, অনিল কাপুর ও বরুন ধাওয়ানের মতো সেলিব্রেটিদের সঙ্গে দেখা করেছে।
এই টিকটক ভিডিওয়ের মাধ্যমে এই যুবক কেবল তাবরেজ আনসারী মামলায় বিভ্রান্তিকর খবর ছড়াচ্ছে, বরং খোলাখুলি ভাবে সাম্প্রদায়িকতা এবং সম্ভাবহীনতার ভাবনাকে উৎসাহিত করছে। চিন্তাজনক বিষয় হলো হাসনেন এর একার ইনস্টাগ্রামে ৩৮ লাখের বেশি ফললোয়ার্স আছে এবং টিকটক এ ১.২৫ কোটির বেশি ফললোয়ার্স আছে। তাই যদি এইসব লোকেরা এরকম বিভ্রান্তকর খবর ও প্রোপাগেন্ডাকে উৎসাহিত করে, তবে দেশে সাম্প্রদায়িকতা ঘটনা ও দাঙ্গাক উৎপন্ন পরিস্তিতি হবে।
জানিয়ে দি এইসব কারণের জন্য মাদ্রাসা হাইকোর্ট কিছু সময়ের জন্য টিকটক এ নিষেধাজ্ঞা লাগিয়েছিল, যখন এই প্লাটফর্মে একজন যুবক নিজেকে গুলি মেরে নিজের লাইভ ভিডিও বানিয়েছিল। সেই সময় যুবকের সত্যিকারে গুলি লাগার কারণে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষিত করেছিল। এছাড়া টিকটক কে নিষিদ্ধ করার পিছনে আরেকটি লারণ হলো এই প্লাটফর্মে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি উৎসাহ দেওয়া হচ্ছিল।
যখন মাদ্রাজ হাইকোর্ট কিছু সময় পর অন্তর্বর্তী রূপে নিষেধাজ্ঞা সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় তখন টিকটক পরিচালকেরা লিখিত রূপে এই বয়ান দিয়ে প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা এই ধরণের কনটেন্ট শিকার স্বীকার করবেন না। কিন্তু হাসনেন খান ও ফ্যাসু এই ভিডিওটি খোলাখুলি ভাবে প্রসারিত হওয়ায় একটুও মনে হচ্ছে না যে টিকটক নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে। এটা কি মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্ণয়ের ভঙ্গ করা নয়? এটা কি আদালতের অবমাননা করা নয়?
So called Social Media Influencer with Millions of Followers trying to mislead people in the name Religion about Thief Tabrez Ansari
He has 3.8 Millions followers on Instagram & much more on TIKTOK pic.twitter.com/CkFufzwogM
— Chhoro Marwadi (@ChhoroMarwadi) July 7, 2019
এমনিতে টিকটক অতি অশ্লীল ও বিভ্রান্তকর খবর ছড়ানোর সবচেয়ে সস্তা ও ভাইরাল মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। বিদ্রূপ হলো টিকটক এ প্রসারিত যেকোনো ভিডিও খুব কম সময়ের মধ্যে লাখ লাখ লোকের কাছে পৌঁছে যায়। তাই যদি তাবরেজ আনসারীর জন্য বানানো ভিডিওটিতে বিভ্রান্তকর কনটেন্ট বানানো ইউজারদের উপর লাগাম না লাগানো হয় তবে স্থিতি সামলানোর বাইরে যেতে পারে।
তাবরেজের মতো লোকে হত্যা হওয়ায় মিছিল বার করা ও স্লোগান লাগানো ভিড় আমারা সাধারণত রাস্তায় দেখতে পাই কিন্তু মথুরাতে লস্যি বিক্রেতা ভারত যাদব হোক বা গঙ্গারামের মতো লোকের হত্যার পর না রাস্তায় আক্রোশ দেখা যায় না। তাহলে কি হিন্দু বলেই তাদের হত্যার জন্য রাস্তায় ভিড় জমা হয় না!
জানিয়ে দি, তাবরেজ আনসারী নিয়ে দেশের মিডিয়াও অনেক ভুল খবর ছড়িয়ে ছিল। চোর তাবরেজ আনসারী ধরা পড়ার পর নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দিয়েছিল এবং হিন্দু নাম বলেছিল। কিন্ত লোকেদের সন্দেহ হওয়ায় তাকে জয় শ্রী রাম, জয় হনুমান বলিয়ে যাচাই করেছিল। কিন্তু মিডিয়া ঘটনাটিকে হিন্দুদের দোষারোপ করে ছড়িয়েছিল। আর এখন টিকটিক ব্যাবহারকারী তাবরেজকে নিয়ে ভিডিও করে আতঙ্কবাদকে সমর্থন করতে শুরু করেছে।
from India Rag Bengali : Bengali News, Bangla News, latest bengali news, Bangla Khobor, Bangla, বাংলা খবর https://ift.tt/30qxICC
Bengali News